কেমন হবে আমাদের ভবিষ্যতের যানবাহনগুলো?

আমরা কি ভেবে দেখেছি যে আমাদের ভবিষ্যতের যানবাহনগুলো কেমন হতে যাচ্ছে? “ম্যাকগাইভার” কিংবা সাই-ফাই (Science Fiction) মুভিগুলোতে যে ভবিষ্যতের গাড়িগুলো দেখি সেগুলো কি আদৌ সম্ভব? হলেও সেটা কবে নাগাদ? একটু খোঁজ করলেই আমরা জানতে পারবো যে অটো-মবিল প্রতিষ্ঠানগুলো সেই পথেই যাচ্ছে।

ছবিঃ Volkswager ID3; যেটিকে আগামী দশকের সেরা গাড়ি গণ্য করা হচ্ছে

জ্বালানী গ্রহণ এবং এর ফলে CO2 নির্গমনের ফলে গতানুগতিক গাড়িগুলি পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা বায়ু দূষণের সৃষ্টি করে। এই নির্গমনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে জলবায়ু পরিবর্তন আইন ২০০৮ চালু করা হয়েছিল। হাইব্রিড অর্থাৎ জ্বালানী এবং ব্যাটারি এর মিশ্রণ সমৃদ্ধ যানবাহনগুলি উল্লেখযোগ্যভাবে নির্গমন হ্রাস করলেও CO2 নির্গমন এর হার প্রয়োজন মোতাবেক নিম্নগামী নয়। এদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন CO2 নির্গমন লক্ষমাত্রা অনুযায়ী, ২০২০ সাল থেকে, ইউরোপের নতুন গাড়িগুলির জন্য CO2 গড় নির্গমন লক্ষ্যমাত্রা হবে ৯৫ গ্রাম  CO2  / কিমি। এই লক্ষমাত্রা যদি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অর্জন করতে ব্যর্থ হয় তাহলে গুনতে হবে অনেক টাকা জরিমানা এবং একটা সময় গিয়ে হয়ত ব্যাবসায়িক লাইসেন্স বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আমরা অনেকেই হয়ত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “Tesla” এর নাম জানি। “Tesla” পৃথিবীর একমাত্র গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যারা সর্বপ্রথম “ইলেকট্রিক গাড়ি” পরিপূর্ণভাবে বাজারজাত করা শুরু করে যেগুলো পুরোপুরি ব্যাটারি দিয়ে চালিত হয়। ইন্টারেস্টিং, তাইনা? হ্যাঁ বিষয়টা আসলেই অনেক ইন্টারেস্টিং। এধরনের গারিগুলো আরও ইন্টারেস্টিং যদি আমরা এদের সুবিধাগুলোর দিকে একটু নজর দিই। বৈদ্যুতিক যানবাহনগুলো গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুত শক্তি ব্যাটারি এর মাধ্যমে স্টোর করে মূল শক্তির 77% আউটপুট দিতে সক্ষম যেখানে প্রচলিত পেট্রোল যানবাহনগুলি কেবলমাত্র মূলশক্তির 12% থেকে 30% শক্তি আউটপুট দিতে সক্ষম।

মিশিগান পরিবহন গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বৈদ্যুতিক গাড়িগুলি চালনা করতে গ্যাস চালিত গাড়ি থেকে অর্ধেকেরও কম ব্যয় হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি ইভি(বৈদ্যুতিক গাড়ি) পরিচালনার জন্য প্রতি বছর গড়ে বাংলাদেশি টাকায় ৪১০০০ টাকা ব্যয় হয় , অন্যদিকে পেট্রোল চালিত গাড়ির গড় ব্যয় প্রায় ৯৪০০০ টাকা। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্রায় ০%  CO2 নিঃসরণ করে। ফ্রান্স, নরওয়ে, জার্মানি, ইউ কে সহ ইউরোপের প্রায় সব দেশই বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য চার্জিং পয়েন্টের প্রতুলতায় সয়ংসম্পন্ন হওয়ার টার্গেট গ্রহন করেছে। এশিয়া মহাদেশে চায়না, জাপান এবং দক্ষিন করিয়া এই প্রতিযোগিতায় অনেক এগিয়ে আছে। চায়নায় পৃথিবীর সবথেকে বেশি সংখ্যক ইলেকট্রিক গাড়ি রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিন কোরিয়াতে সর্বাধিক ফাস্ট চার্জার রয়েছে ইলেকট্রিক গাড়িগুলোকে রিচার্জ করার জন্য। অবাক করা বিষয় হল আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও অনেকগুলো ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন রয়েছে ইলেকট্রিক গাড়ির পাশাপাশি।

বর্তমানে প্রায় সবগুলো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই পরিপূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারজাতকরণের চেষ্টা করছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান “Volkswagen” তাদের প্রথম পরিপূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ি ২০২১ সাল থেকে বাজারজাতকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি হতে পারে এই দশকের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি যা কিনা মানুষকে ইলেকট্রিক গাড়ি ব্যাবহার এ অনুপ্রানিত করার ক্ষেত্রে সবথেকে বেশি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


Writer: Hasibul Haque Rodro
Rodro is a regular and active intern at NBICT LAB. He is a student of the department Electrical and Electronic Engineering of Hajee Mohammad Danesh Science & Technology University.

For any kind of feedback or support feel free to e-mail him at rodro.haque1016@gmail.com or ask your questions in the comment box.
Share:

Webinar On Powerpoint Hacks





"If anything like PowerPoint used well, it would ideally reflect the way we think."
- Steven Pinker These days, it is important for everyone to learn PowerPoint and master the art of making effective presentations by it. Now, whether you are a student or professional, it is expected that you have good knowledge about how to use the PowerPoint tools to make an effective presentation. So, understanding the importance of PowerPoint skills in our life, IEEE HSTU STUDENT BRANCH presents to you all, a webinar titled "PowerPoint Hacks" where you can learn how to use Microsoft PowerPoint tools effectively to make a nice presentation with our resource person Mr. Sadhan Verma. Speaker Details: Sadhan Verma Designation: IT Entrepreneur and Trainer. Founder and CEO of NBICT LAB. Director, BCE ICT Training Program, HSTU. To be able to participate in this webinar, you have to register first. Registration link: https://forms.gle/zHkP9Ri2ZTuANcVj9 Please provide your email ID carefully as you will get a mail containing a webinar link and other instructions about the webinar in it. Webinar Platform: Google Meet Date: 24 July, Friday Time: 8 PM So, what are you waiting for? Register and participate with us in this learning session and if you have any questions, regarding this event please contact us.


Share:

একবিংশ শতাব্দীর বিপ্লবঃ বায়োইনফরম্যাটিক্স



বায়োইনফরম্যাটিক্স এর বাংলা হচ্চে জৈবতথ্য বিজ্ঞান। ইংরেজিতে একে বলা হয়েছে এক ধরণের interdisciplinary field। অর্থাৎ, জৈবতথ্য বিজ্ঞানে জীববিজ্ঞানের সাথে আরও কত গুলো বিষয় সংশ্লিষ্ট রয়েছে। সেই বিষয়গুলো হচ্ছে প্রথমত, কম্পিউটার বিজ্ঞান, দ্বিতীয়ত, গাণিতিক অ্যালগরিদম ও পরিসংখ্যান। বায়োইনফরম্যাটিক্সে যে জীববিজ্ঞানের কথা বলা হচ্ছে তা মূলতঃ অনুপ্রাণ বিজ্ঞান, ইংরেজিতে যাকে মলিকুলার বায়োলজি বলা হয়। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এই অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের সাথে কম্পিউটার বিজ্ঞানের সম্পর্কটা আসলে কী?

আমার বায়োইনফরম্যাটিক্স সম্পর্কে জানার ও জানানোর আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে কয়েকটি কারণ থেকে। আমি নিজেই মৌলিক ভাবে একজন বায়োলজিক্যাল সাইন্সের ছাত্র ছিলাম। কিন্তু কম্পিউটার বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ পোষণ করতাম সবসময়। প্রতিদিন গড়ে অন্ততঃ পাঁচ ঘণ্টা  আমার কম্পিউটারের সামনে বসে ব্যয় হত এবং সেই সময়টা এখন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বায়োলজিক্যাল সাইন্সে পড়া একজন শিক্ষার্থীর কম্পিউটারের সামনে বসে সময় নষ্ট করার যৌক্তিকতা কতটুকু। শুরুর দিকে আমি কোন প্রকার যুক্তি দেখিনি। কম্পিউটারে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা ভালো লাগে শুধু এতটুকুই বলতে পারতাম। বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্সের ক্লাসে স্যার আমাদেরকে বায়োইনফরম্যাটিক্স সম্পর্কে অল্প কিছু তথ্য দিয়েছিলেন । তাতে অনুপ্রাণ বিজ্ঞানের সাথে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সম্বন্ধে জানতে পারি। কিন্তু ব্যাপারটা ছিল অনেকটাই ধোঁয়াটে। এদিকে একটা প্রাইভেট প্রোগ্রামে উচ্চমাধ্যমিকের আইসিটি শিক্ষক হিসেবে লেকচার দেয়া শুরু  করেছিলাম। যদিও আইসিটি সম্পর্কে বেশ কিছু নিবন্ধ ও গ্রন্থ পড়েছি তথাপি উচ্চ মাধ্যমিকের আইসিটি বইটি আমার কাছে নতুন। সুতরাং বইটি উল্টিয়ে পালটিয়ে দেখতে হল। বইটির কোন একটা জায়গায় বায়োইনফরম্যাটিক্স সম্পর্কে একটা বর্ণনা দেখতে পেলাম, স্যার আমাদের ক্লাসেই যার সম্পর্কে অল্প কিছু বলেছিলেন। ভাবতেই অবাক লাগলো যে আজকে যেখানে উচ্চমাধ্যমিকে কলেজের ছাত্র বায়োইনফরম্যাটিক্স সম্পর্কে পড়ছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার সত্ত্বেও ওই বিষয় সম্পর্কে আমার ধারণা প্রায় শুন্য। সুতরাং বায়োইনফরম্যাটিক্সের সাধারণ জ্ঞানকে ঝালাই করতে হল।

বিজ্ঞানীরা সারাটা জীবন মানব কল্যাণের জন্য বিভিন্ন গবেষণা কর্ম চালিয়ে যান। অক্লান্ত শ্রমের বিনিময়ে তৈরি বহুমূল্য এই গবেষণা কর্মগুলি বিজ্ঞান বইয়ের পাতাকে প্রতিনিয়ত ভারী করে তোলে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা অনেক সময় অজান্তেই পূর্বে তৈরি হয়ে যাওয়া গবেষণা কর্মে শ্রম দিয়ে অত্যন্ত মূল্যবান সময় নষ্ট করে ফেলেন। পৃথিবীর এক প্রান্তের গবেষণার ফল অন্য প্রান্তের গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলে আবিষ্কারে খুব দ্রুতই বিপ্লব নিয়ে আসা সম্ভব হয়। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন এমন একটি টুলের যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষণার মধ্যে আন্তঃসংযোগ স্থাপন করতে পারে। এই টুলটিই প্রদান করে বায়োইনফরম্যাটিক্স। বিজ্ঞানী আর গবেষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর গবেষণার ফলে যে বহুমূল্যবান তথ্য প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে সেই সকল তথ্যের মধ্যে  বায়োইনফরম্যাটিক্স যে আন্তঃসংযোগটি প্রদান করে তার ফলে গবেষণাকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণের জন্য অনুপ্রাণ বিজ্ঞানে তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগকে বায়োইনফরম্যাটিক্স বলা যেতে পারে। তথ্য প্রযুক্তির এই প্রয়োগ মূলত বিভিন্ন বায়োলজিক্যাল ডাটা এনালাইসিসকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই বায়োলজিক্যাল ডাটার পরিধি মূলত ডিএনএ, জীন, অ্যামিনো এসিড, প্রোটিন, নিউক্লিক এসিড এগুলোর মধ্যেই মোটামুটি ভাবে সীমাবদ্ধ থাকে।

প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক মডেলিং

উপরে যতটুকু বলা হল আমার মনে হয় না তাতে বায়োইনফরম্যাটিক্সের প্রাথমিক ধারণা যথেষ্ট পরিষ্কার হয়েছে। বায়োইনফরম্যাটিক্সের প্রয়োগ যেহেতু কৃষি, মাৎস্য ও পশু চিকিৎসা খাতেই সর্বাধিক, সুতরাং এগুলোর মাধ্যমেই বিষয়টি উদাহরণের সাহায্যে বোঝানো যেতে পারে। ধরুন, কোন এক প্রকার ভাইরাস কোন কৃষিজ পণ্য, বা কোন মাছের মধ্যে কিংবা কোন গবাদি পশুতে মহামারী আকারে ছড়ায়। সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে পেপটাইড ভ্যাক্সিন তৈরি করা প্রয়োজন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে শতাধিক পেপটাইড সম্ভব হতে পারে। কিন্তু এদের মধ্যে হয়ত মাত্র তিন চারটি পেপটাইড ভ্যাক্সিন হিসেবে কাজ করতে পারে। এখন এই তিন চারটি পেপটাইডকে খুঁজে পেতে শতাধিক পেপটাইডের উপর গবেষণাগারে পরীক্ষা চালাতে হয়। যাতে লক্ষ লক্ষ টাকা, পরিশ্রম আর সুদীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। কারণ এখানে শতাধিক উপাদান থেকে মাত্র তিন চারটি উপাদানকে বহুমূল্যবান রিয়াজেন্টেন মাধ্যমে পরীক্ষা করে খুঁজে বের করতে হবে। যা যথেষ্ট সময় আর শ্রম সাপেক্ষ। কিন্তু এই কাজটিই যদি কোন ড্রাই ল্যাবে কোন প্রকার রিয়াজেন্টের ব্যবহার ছাড়াই স্বল্প সময়ে করা যেতে পারত তবে গবেষণার কাজ স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হত। এজন্য গবেষকগণ এমন একটি টুল উদ্ভাবনের কথা চিন্তা করলেন যা এমন একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক ড্রাই ল্যাব তৈরি করবে যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকগণ গবেষণা কাজ চালাতে পারেন। আর তা সম্ভবও হল। গবেষকগণ এমন কতগুলো সফটওয়্যার ডেভ্লপ করে ফেললেন যেখানে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন বায়োলজিক্যাল ডাটার বিশ্লেষণ করে ঐ ডাটা সমূহের ত্রিমাত্রিক মডেলিং, সিমুলেশন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়। এ ধরণের টুলের সাহায্যে ড্রাই ল্যাবে কোন ধরণের রিয়াজেন্টের সাহায্য ছাড়াই স্বল্প সময়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসে থাকা গবেষকদের সহায়তায় উপরের উদাহরণের মত শতাধিক পেপটাইড থেকে সম্ভাব্য দশটি পেপটাইড খুঁজে বের করা সম্ভব হয়। এভাবে শতাধিক পেপটাইড নিয়ে ওয়েট ল্যাবে কাজ করা ছাড়াই এই দশটি মাত্র পেপটাইড নিয়ে কাজ করে দশ গুণ কাজের সময় কমিয়ে, শ্রম আর অর্থ সাশ্রয় করে দেয় যে পদ্ধতিটি  সেটিই বায়োইনফরম্যাটিক্স। 


NCBI-এর জীন সিকুয়েন্স ম্যাপ
আমরা মোটামুটি সকলেই সংকরায়ন কথাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি। সংকরায়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যেটি একুশ শতকের এই ভয়াবহ পারিবেশিক প্রক্রিয়ার মধ্যেও কৃষিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার মাধ্যমে জনবহুল বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত রেখেছে। সংকরায়ন প্রক্রিয়ায় একাধিক গুণাবলী সম্পন্ন জাত থেকে ঐ সকল গুণের নিয়ন্ত্রণ করে যে জীনগুলি সে জীনগুলিকে একটি নির্দিষ্ট জাতের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। এই অত্যন্ত জটিল কাজটিকে সহজ করে দেয় বায়োইনফরম্যাটিক্স। তাই এখন গবেষকরা কম খরচে, পরিবেশের কম ক্ষতি করে বেশি উৎপাদনের পদ্ধতিটি খুঁজে বের করার জন্য বায়োইনফরম্যাটিক্সের দ্বারস্থ হচ্ছেন। এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে বায়োইনফরম্যাটিক্স কৃষিজ উৎপাদন খাতে দুনিয়াকে নেতৃত্ব দেবে।

উপরের স্ক্রিনশটে একজন বায়োলজিস্ট এমন একটি ঘোষণা দিচ্ছেন যে
তাঁরা ওয়েব সার্ভারে এমন একটি সফটওয়্যার তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন
 যেটি কিনাপ্রোটিন তথা ডি-অ্যামিনো এসিড সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দিতে পারে।


১৯৫০ সালের শুরুর দিকে ফ্রেডারিক সেঙ্গার ইনসুলিনের সিকুয়েন্স সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন। ঠিক তখনই বিশ্ব প্রোটিনের সিকুয়েন্স সম্পর্কে সর্বপ্রথম অবগত হওয়ার মাধ্যমে অনুপ্রাণ বিজ্ঞানে
কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। বায়োইনফরম্যাটিক্সের মাধ্যমে প্রোটিনের একাধিক সিকুয়েন্সের মধ্যে তুলনা হয়ত সর্বপ্রথম করেছিলেন আমেরিকান মহিলা রসায়নবিদ ডঃ মার্গারেট ওয়াকলে ডেহফ্‌। যাকে ন্যাশনাল সেন্টার ফর্‌ বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন(NCBI)-এর ডিরেক্টর ডেভিড লিপম্যান বায়োইনফরম্যাটিক্সের মাদার এবং ফাদার হিসেবে অভিনন্দিত করেছেন। ডঃ ডেহফ্‌ ডেটাবেজের মধ্যে ডেটা টেবিলের শুরুর দিকের কোন প্রোটিনের সিকুয়েন্স তালিকাভুক্ত করেছিলেন এবং পরবর্তীতে সিকুয়েন্স অ্যালাইনমেন্ট ও অনুপ্রাণের বিবর্তনের ধারণা প্রদানের মাধ্যমে বায়োইনফরম্যাটিক্সের আলোকবর্তিকা হন।

বায়োইনফরম্যাটিক্সের মাধ্যমে আজকাল অনেক জটিল প্রক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। যেমনঃ সিকুয়েন্স অ্যালাইনমেন্ট, কাঙ্ক্ষিত জীন খুঁজে বের করা, জিনোম অ্যাসেম্বলি, ড্রাগ ডিজাইন করা, প্রোটিনের গঠন অ্যালাইন করা, প্রোটিনের গঠন সম্পর্কে পূর্ব ধারণা দেয়া ইত্যাদি। যে ওপেন সোর্স সফটওয়ারের মাধ্যমে বায়োইনফরম্যাটিক্সের এই জটিল কাজগুলো সম্পাদনা করা হচ্ছে সেগুলি হচ্ছে বায়ো কনডাক্টর,বায়ো-পার্ল, বায়ো-পাইথন, বায়ো-জাভা, বায়ো-জাভাস্ক্রিপ্ট  ইত্যাদি। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এই সফটওয়্যারগুলো যারা ডেভ্লপ করেছেন তাঁরা একাধারে বায়োলজিস্ট ও প্রোগ্রামার। অত্যন্ত অবাক হওয়ার বিষয় যে, পৃথিবী আজ কোথায় চলে গিয়েছে আর আমরা এ অবধি কোথায় পড়ে আছি! 

Share:

গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরী

ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ এর অনেক গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশের মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হল এই গ্রাফিক্স কার্ড। একে নিয়েই আমাদের যত জল্পনা কল্পনা। কার কম্পিউটারে এটি উপস্থিত কার কম্পিউটারে অনুপস্থিত। এর আকার কত জিবি। এর নির্মাতা কোম্পানি কোনটি? এগুলোই আমরা ভাবি ল্যাপটপ কেনার অথবা ডেস্কটপ বানানোর আগে। অনেকেই আবার এই বিষয়টার সাথে একদমই অপরিচিত। পরিচয় থাকুক বা না থাকুক গ্রাফিক্স কার্ড কেনার আগে অবশ্যই আমাদের ভেবে দেখা উচিত আমাদের প্রয়োজন এবং বাজেট এর প্রতুলতার কথা। কারন অনেকের কাছে অপ্রয়োজনীয় আবার অনেকের কাছে খুব প্রয়োজনীয় এই জিনিসটির মূল্য মোটেই কম নয়। এবং প্রয়োজন মাফিক সঠিক গ্রাফিক্স কার্ডটি সিলেক্ট করাও একটি চ্যাঁলেঞ্জিং বিষয় কারণ বাজারে অনেক মডেলের অনেক গ্রাফিক্স কার্ড রয়েছে। সেই চ্যাঁলেঞ্জিং কাজটিকে সহজ করে দেওয়ার প্রচেষ্টাই করা হবে এই আর্টিকেলটিতে। শুরু করা যাক তাহলে:

গ্রাফিক্স কার্ড কি?

আমরা মনিটর এ যা দেখি সেগুলো তৈরি হয় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিন্দু দিয়ে যেগুলোকে বলা হয় Pixels। সাধারন রেজুলেশন-এ সব মনিটর এই এক মিলিয়ন এরও অধিক pixels দেখায়। কোন স্থির অথবা চলমান দৃশ্য দেখানোর জন্য ডিসপ্লে এই প্রতিটি Pixel কে কিভাবে সাজাবে সে বিষয়ে কম্পিউটারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই কাজটি করার জন্য কম্পিউটারের একটি ট্রান্সলেটরের প্রয়োজন হয় যার কাজ থাকে CPU থেকে সংগৃহীত Binary Data কে একটি ছবিতে রুপান্তর করা। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই করে থাকে গ্রাফিক্স কার্ড। একটি উদাহরণ এর মাধ্যমে বিষয়টি সহজ করা যাক। ধরা যাক, আমাদের কম্পিউটার একটি প্রতিষ্ঠান যার নিজস্ব একটি Art Department রয়েছে। যখন কোন ক্রেতার একটি নির্দিষ্ট ছবির প্রয়োজন হয় তখন সে Art Department-এর নিকট একটি Order place করে। Art Department সেটি কাগজে টুকে নেয়। সব শেষে End Result হিসেবে সেই ক্রেতার Idea একটি দৃশ্যমান ছবিতে রূপ দেয় সেই প্রতিষ্ঠানটির Art Department। এই Art Department-ই হল আমাদের কম্পিউটারের গ্রাফিক্স মেমরি।

গ্রাফিক্স কার্ড কেন প্রয়োজন?

গ্রাফিক্স কার্ড এখন আর শুধুমাত্র গেম খেলা এবং ভিডিও প্লেব্যাক এর জন্য ব্যাবহৃত হয়না। অনেক কাজ রয়েছে গ্রাফিক্স কার্ড এর। যেমনঃ
১ - প্রোগ্রামাররা আবিষ্কার করেছে যে সাধারন গানিতিক হিসাব নিকাশ দ্রুততর করতে গ্রাফিক্স কার্ড সাহায্য করে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেমনঃFacial Recognition এবং Language Processing এর কাজ করে গ্রাফিক্স কার্ড।
২ - Cryptocurrency mining এর কাজেও গ্রাফিক্স কার্ড সাহায্য করে।
৩ - ভাল মানের গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়া ভিডিও এডিটিং সম্ভব না।
৪ - Photoshop এবং Illustrator এর কাজ সহজতর করে গ্রাফিক্স কার্ড।
এখন সবার মনে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে আমার PC তে তো গ্রাফিক্স কার্ড নেই। আমি কি Photoshop এবং Illustrator এর কাজ করতে পারবোনা? Youtube-এ 4K ভিডিও দেখতে পারবনা? অবশ্যই পারব। কারণ, আমাদের সবার PC তে Intel অথবা AMD এর গ্রাফিক্স কার্ড (কম শক্তিশালী) ইন্টিগ্রেটেড থাকে। এই গ্রাফিক্স কার্ডগুলো এধরনের lightweight কাজ অনায়াসে করতে পারে। তবে গেমার এবং প্রডাক্টিভ কাজ যারা বেশি করেন তাদের জন্য এক্সটারনাল গ্রাফিক্স কার্ড(NVIDIA,AMD) আছে এমন PC কেনার পরামর্শ থাকল।

পরিমান নাকি পরিচয়?

কম্পিউটার কেনার সময় আমরা সব চেয়ে যে ভুলটি বেশি করে থাকি তা হল উপরের এই প্রশ্নের উত্তরটি। আমরা এখনও অনেকে ধারনা করে থাকি যে বেশি মানেই হয়ত ভাল। কিন্তু না। প্রযুক্তি এই নিয়ম মেনে চলে না। প্রযুক্তি মেনে চলে নতুন আবিষ্কার এবং নতুন প্রজন্মের নিয়ম। এক কথায় বলা যায় প্রযুক্তি যত নতুনতর হবে সেটি তার পূর্ব প্রজন্ম থেকে ভাল হবে এমনকি আকার বা সংখ্যায় ছোট হলেও। গ্রাফিক্স মেমরি এর বেলাতেও একই নিয়ম। একটি গ্রাফিক্স কার্ড ভাল হওয়ার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি বৈশিষ্ট্য হলঃ
১। মডেল নাম্বার
২। মডেল নাম্বার
৩। মডেল নাম্বার
অর্থাৎ, বোঝাই যাচ্ছে যে গ্রাফিক্স কার্ড পছন্দ করার ক্ষেত্রে যে বিষয়টি সব থেকে বেশি লক্ষ রাখতে হবে তা হল মডেল নাম্বার। কারণ, মডেল নাম্বার দ্বারা কার্ডটির Graphics Processor(GPU), Clock Rates এবং Memory Bandwith সম্পর্কে জানা যায় যেগুলো নির্ধারণ করে গ্রাফিক্স কার্ডটির ক্ষমতা কতটুকু। যেমনঃ NVIDIA GTX 940MX অথবা AMD Radeon RX 530। এখানে NVIDIA এবং AMD হল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং 940MX এবং 530 হল মডেল নাম্বার।

4 GB or 2 GB? কোনটা ভালো?

শুধু মাত্র বেশি গ্রাফিক্স মেমরি আছে বিধায় সেই গ্রাফিক্স কার্ডটি চয়েস করাটা অনেকটা বড় সাইজ এর তেল এর ট্যাঙ্ক দেখে বাইক কেনার মত এবং এই ভুলটিই আমরা বেশি করে থাকি। মূলত অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করে একটি গ্রাফিক্স কার্ড ভাল হওয়ার জন্য। তবে একটি কমন বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে। সেটি হল মডেল নাম্বার দিয়ে কার্ড এর ক্ষমতা বোঝার চেষ্টা করা। Higher the model number, Higher the power।যেমনঃ Nvidia Gtx 940MX এর 4 GB থেকে Gtx 1050 এর 2 GB বেশি শক্তিশালী। তেমনিভাবে Nvidia GT 1030 এর 4 GB থেকে GTX 1060 এর 3 GB বেশি শক্তিশালী।
ওপরের picture-টিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি GTX 1050 2GB এর Performence Radeon RX 560 4GB থেকেও ভালো। তাই আমাদের সবার লক্ষ্য রাখা উচিত যেন ভবিষ্যতে এই ভুলটি আর না হয়।

GDDR3 or GDDR5?

অবশ্যই GDDR5। কারণ, Bandwith নির্ধারণ করে একটি মেমরি এর Performence কতটা ভালো হবে। এজন্য GDDR5 মেমরিগুলোর Performence প্রায় দিগুণ হয় GDDR3 এর মেমরি থেকে। অর্থাৎ GDDR5 এর 1 GB, GDDR3 এর 4 GB থেকে সহস্রগুণে ভাল।

CPU + GPU:

শুধুমাত্র ভাল গ্রাফিক্স প্রসেসর হলেই যে অনেক ভাল Performance পাওয়া যাবে তা একদমই না। ভাল গ্রাফিক্স কার্ড এর সাথে প্রয়োজন ভাল প্রসেসর। 2nd generation এর একটি প্রসেসর এর সাথে যদি বর্তমান সময় এর সবথেকে জনপ্রিয় GPU GTX 1050 জুড়ে দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে মোটেই ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে না কম্পিউটার থেকে। কিন্তু ঐ একই GPU যদি 8th generation এর একটি CPU এর সাথে লাগানো হয় তাহলে অবশ্যই একদম পুরো performance পাওয়া যাবে কম্পিউটার থেকে। তাই সবসময় CPU এর কথা ভেবেই গ্রাফিক্স কার্ড লাগাতে হবে।

কুলিং সিস্টেম এর আবশ্যকতাঃ


কুলিং সিস্টেম ছাড়া একটি কম্পিউটার অনেকটা অচল। কম্পিউটার এর performance কে stable রাখতে এবং দীর্ঘ সময় এর জন্য সচল রাখার জন্য কুলিং সিস্টেম এর বিকল্প নেই বললেই চলে। আমাদের কম্পিউটার এর Central এবং Graphics উভয় Processor অনেক গরম হয় কম্পিউটার যখন সচল থাকে। এই উৎপন্ন তাপ বের করার জন্য তাই প্রয়োজন পরে Exaust Fan এর। এই Exaust Fan গুলোর সমন্বয়কে বলা হয় কম্পিউটার এর কুলিং সিস্টেম। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে যদি অনেক শক্তিশালী গ্রাফিক্স মেমরি লাগানোর কথা মাথায় আনি তাহলে অনেক ভালো মানের একটি কুলিং সিস্টেম ও লাগাতে হবে Performence ঠিক রাখার জন্য।

আশা করা যায় অনেকগুলো কমন প্রশ্নের জবাব পাওয়া গিয়েছে। আর হ্যাঁ, এখন কোন গ্রাফিক্স কার্ড-এর Performance সম্পর্কে জানতে হলে YouTube এ যান এবং Rendering অথবা Gaming Performance দেখে বাজেট এর মাঝে সেরা কার্ডটি খুঁজে বের করে ফেলুন।


Writer: Hasibul Haque Rodro
Rodro is a regular and active intern of NBICT LAB. He is a student from the department of Electrical and Electronic Engineering of Hajee Mohammad Danesh Science & Technology University.

For any kind of question about GPU feel free to e-mail him at: hhr1016@hotmail.com or ask your questions in the comment box.
Share:

কীভাবে নিজের পছন্দের ল্যাপটপটি বাছাই করব?





ল্যাপটপ কেনার আগে আমরা অনেকেই একটা সমস্যায় পড়ি যে কোন ল্যাপটপ কিনব? সবার প্রশ্ন একই হলেও এর সমাধান হয় এক এক জনের জন্য এক এক রকম। কিন্তু দিন শেষে দেখা যায় অনেকেই তাদের কাঙ্ক্ষিত ল্যাপটপটা কিনতে পারেন না। অথবা, যে কাজের জন্য কিনেছেন সেই কাজটিই হচ্ছে না পুরোপুরিভাবে। অবশেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমরা যেটা কিনেছি সেটা নিয়েই খুশি থাকার চেষ্টা করি। অথচ এই বড় সমস্যাটির সমাধান কিন্তু অতি সহজে কারো সাহায্য ছাড়াই আমরা নিজেরাই করতে পারি। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু বেসিক জিনিস জানতে হবে। সেগুলা নিয়েই আজকের আলোচনা। চলুন তাহলে শুরু করা যাকঃ

নিজের প্রয়োজন সম্পর্কে জানাঃ

ল্যাপটপ কেনার আগে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে আপনি মূলত কোন কাজের জন্য ল্যাপটপ কিনতে চাচ্ছেন। কেউবা ফটোগ্রাফির কাজ করেন, কেউ আবার সারাদিন এতটাই ব্যাস্ত থাকেন যে ল্যাপটপে চার্জ দেওয়ার সুযোগ তেমন হয়ে ওঠে না। অথচ সারাদিনে অনেকবার আপনার ল্যাপটপ প্রয়োজন হয়। আবার কেউবা প্রচুর গেম খেলেন। তাই প্রথমত ঠিক করুন আপনি মূলত কোন প্রয়োজনে ল্যাপটপটি কিনবেন। সব ল্যাপটপ বা নোটবুকেই গান শোনা, ভিডিও দেখা, নেট সারফিং, গেম খেলা যায় কিন্তু প্রত্যেকটা ল্যাপটপ বা নোটবুকেরি স্পেসিয়ালিটি থাকে যেটি সম্পর্কে ছোট করে আলোচনা করার চেষ্টা করব। বেশি কঠিন করে না ভেবে সহজভাবে নেওয়ার চেষ্টা করলেই দেখবেন অনেক কিছু শিখে ফেলেছেন।

ল্যাপটপ এর স্পেসিয়ালিটি সম্পর্কে জানাঃ

সব ল্যাপটপ বা নোটবুকেই মিডিয়া কঞ্জাম্পশন, গেমিং, নেট সারফিং, স্টাডি ওয়ার্ক করা যায় কিন্তু কোনোটায় পারফরমেন্স কম আবার কোনোটায় বেশি। তাই চলুন প্রথমে জেনে নিই সাধারণত কত ধরনের নোটবুক বা ল্যাপটপ এর দেখা মেলে বাজারে।
১) বিজনেস নোটবুকঃ
এই নোটবুকগুলো সাধারণত অনেক বেশি ব্যাটারি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম হয় এবং থিন এন্ড লাইট হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। এই ল্যাপটপগুলোতে GPU বা গ্রাফিক্স মেমোরি সচরাচর দেখা যায় না কিন্তু এই ক্যাটাগরির প্রতিটা নোটবুকেরি অনেক প্রিমিয়াম লুক থাকে। তাই যারা সারাদিন অনেক ব্যাস্ত থাকেন এবং খুব একটা গেম খেলেন না তাদের জন্য বেস্ট ক্যাটাগরি হল এই ল্যাপটপগুলো। যেমনঃ ACER Swift series, ASUS Zenbook series, HP Envy series ইত্যাদি।
২) প্রোডাক্টিভ টাইপ নোটবুকঃ
এই ধরনের নোটবুকগুলো টাচ স্ক্রিন বা নন টাচ স্ক্রিন দুই ধরনেরই হয়ে থাকে। তবে এগুলোর স্ক্রিন কোয়ালিটি খুবই ভাল হয়। স্ক্রিনের প্যানেল টেকনোলজি, কালার গ্যামিট, ভিউইং অ্যাঙ্গেল একদম প্রিমিয়াম লেভেলের হয় এবং মাঝারি ক্ষমতার GPU বা গ্রাফিক্স মেমোরি থাকায় লাইট ওয়েট গেম এন্ড ভিডিও এডিটিং এর কাজ মোটামুটি ভাল ভাবেই করা যায়। ফটো এডিটিং এবং ইলাস্ট্রেটর এর কাজের জন্য এই ধরনের নোটবুক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলা চলে। কারন, এগুলোর স্ক্রিন প্রায় ১০০% এসআরজিবি কালার গ্যামিট সাপোর্ট করে যা একজন প্রোফেশনাল এর জন্য খুবই দরকারি। এগুলোর দামও একটু বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান এ লেনোভো এবং এসার এর অনেক ভাল প্রডাক্টিভ টাইপ ল্যাপটপ সুলভ মূল্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে যা আপনি একটু খুজলেই পেয়ে যাবেন। যেমনঃ LENOVO yoga series, HP Spectre series, DELL Xps series ইত্যাদি।
৩) গেমিং নোটবুকঃ
গেমিং ল্যাপটপ হল একমাত্র ডেস্কটপ রিপ্লেসিং টাইপ ল্যাপটপ। এই ধরনের ল্যাপটপগুলো ফুল সাইজ ৪৫ ওয়াট এর প্রসেসর দিয়ে তৈরি হয় যেখানে উপরের দুই ক্যাটাগরির প্রায় সব নোটবুকগুলোই ১৫ ওয়াট এর প্রসেসর দিয়ে তৈরি। তবে গেমিং ল্যাপটপ এর সব থেকে বড় আকর্ষণ হল এর অনেক শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড যা ৪৫ ওয়াট এর প্রসেসর এর সাথে মিলে হাই সেটিংস এ গেম বা 4k ভিডিও এডিটিং এর কাজ অনেক সহজে এবং দ্রুত করে দেয়।
অনেকের একটি ভুল ধারনা থাকে যে গেমিং ল্যাপটপ এ শুধু গেমই খেলা যায়। কিন্তু ধারনাটি ভুল। উপরের ল্যাপটপগুলো যে কাজ করে সেই সব কাজ গেমিং ল্যাপটপও করতে পারে এবং তা করে আরও দ্রুততার সাথে। তাহলে প্রশ্ন হল আমরা সবাই গেমিং ল্যাপটপ কিনলেই তো পারি। শুধু শুধু অন্যান্য ল্যাপটপ কেন কিনব? আসলে এখানেও কিছু ঝামেলা আছে। যেমনঃগেমিং ল্যাপটপগুলোর দাম হয় অনেক বেশি। এগুলো অনেক ভারী হয় ফলে সহজে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। ফুল সাইজ প্রসেসর হওয়ায় এবং ব্যাটারি সাইজ বেশি না হওয়ায় বেশিক্ষন চার্জ থাকে না এবং বেশিরভাগ গেমিং ল্যাপটপ এর স্ক্রিন প্যানেল এর কালার গ্যামিট এবং ভিউইং অ্যাঙ্গেল ভাল হয়না। তবে বাজেটে যদি ৬ অঙ্কের উপরে যাওয়া যায় তাহলে অনেক ভাল স্ক্রিন এর গেমিং ল্যাপটপ পাওয়া যায়। যেমনঃ ASUS Rog series, HP Omen series, MSI Gl series ইত্যাদি।
৪) স্টুডেন্টস নোটবুকঃ
আমাদের সবথেকে পরিচিত এবং প্রিয় ক্যাটাগরি হল এই নোটবুক ক্যাটাগরি। লো বাজেট এবং মিড বাজেট রেঞ্জের সব ল্যাপটপই এই ক্যাটাগরি এর আওতাভুক্ত। এই ল্যাপটপগুলো উপরের সব কাজই মোটামুটিভাবে করতে পারে। এমনকি মিডিয়াম সেটিংস্‌ এ প্রায় সব গেমস খেলা যায় যেসব ল্যাপটপ এ GPU হিসেবে MX150 অথবা 940MX থাকে। স্টুডেন্টসদের সব চাহিদা পূরণের সব গুণাগুণই থাকে এগুলোর। এমনকি কিছু কিছু ল্যাপটপ এর অনেক ভাল স্ক্রিনও থাকে। যেমনঃ HP Pavilion series, LENOVO Ideapad series, ASUS vivobook seris ইত্যাদি।


সামান্য সময় নিয়ে নেট ঘাটাঘাটি করাঃ

তাহলে এখন যেহেতু আমরা ল্যাপটপ এর সাধারন প্রকারভেদ সম্পর্কে জানতে পেরেছি তো আমাদের প্রয়োজন মাফিক সঠিক ল্যাপটপটি নির্ধারণ করতে পারব নিশ্চয়ই? হ্যাঁ, অন্তত আমাদের কোন ধরনের ল্যাপটপ প্রয়োজন সেটা নির্ধারণ করতে পারব সহজেই।
এখন শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হল অনলাইন স্টোরে গিয়ে নিজ নিজ বাজেট রেঞ্জ এর ভেতরে ল্যাপটপগুলোর স্পেসিফিকেশন চেক করে পছন্দের কেটাগরির ল্যাপটপটি খুঁজে বের করা।কাজটি একটু সময় সাপেক্ষ কিন্তু যত বেশি সময় দিব তত ভালভাবে বাছাই করে বাজেট এর মাঝে বেস্ট ল্যাপটপটি খুঁজে বের করতে পারব।এমনকি কম্পেরিজনও করা যায় ল্যাপটপগুলোর মাঝে অনলাইন স্টোরগুলোত।এই ওয়েবসাইট গুলোতে গিয়ে আমরা সার্চ করে পছন্দের ল্যাপটপটি খুঁজে বের করে ফেলতে পারব সহজেই।যেমন: ryanscomputers.com এবং startech.com.bd


আচ্ছা আমরা যা জানলাম শুধু মাত্র এই কয়েকটা বিষয় জেনেই কি আমরা আমাদের ল্যাপটপ সম্পর্কে সব কনফিউশন দূর করতে পারব এবং কাঙ্ক্ষিত প্রোডাক্টটি কিনতে পারব? মোটেই না। আমরা শুধু সাধারন কিছু বিষয় জেনেছি যা একদম বেসিক। কিন্তু আমাদের আরও কিছু কনফিউশন এর জায়গা থেকে যায়।যেমনঃ 


-গ্রাফিক্স কার্ড ৪ জিবি না ২ জিবি?
-শুধু কি ৪ জিবি এবং ২ জিবি হওয়াটাই কি যথেষ্ট ভাল গ্রাফিক্স কার্ড হওয়ার জন্য?
-Core i7 নিব নাকি i5 নিব?
-একটু পাশ থেকে দেখলে স্ক্রিন নেগেটিভ এর মত দেখা যায় কেন?


কষ্টের টাকা দিয়ে পছন্দের ল্যাপটপটি কেনার আগে এমন আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা প্রয়োজন। পরবর্তী আর্টিকেল গুলোতে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।


Writer: Hasibul Haque Rodro
Rodro is a regular and active intern of NBICT LAB. He is a student of the department Electrical and Electronic Engineering of Hajee Mohammad Danesh Science & Technology University.

For any kind of help about choosing your desired notebook feel free to e-mail him at: hhr1016@hotmail.com or ask your questions in the comment box.

Share:

Why NBICT LAB?

We work on -
1. Data Science & Machine Learning;
2. Microsoft Office Applications;
3. 3D Computer Graphics & Animation;
4. Graphic Design & Multimedia;
5. Website Design & Development;
6. Research & Data Analysis;
7. Training.

Contact Us

Name

Email *

Message *

Our News